1. mdrahim191420@gmail.com : Tazu Miazi : Tazu Miazi
  2. admin@www.bangladeshbartabd.com : Bangladeshbarta :
পালিয়ে বিয়ে করায় স্বামী আসামি, স্বামীর ঘরে সন্তান লালন করছে ভিকটিম নারী - Bangladesh Barta
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন

পালিয়ে বিয়ে করায় স্বামী আসামি, স্বামীর ঘরে সন্তান লালন করছে ভিকটিম নারী

বাংলাদেশ বার্তা ডেক্স
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২১
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

২০১৫ সালে অপহরণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয় কুমিল্লার বরুড়া থানায়। সেই মামলার প্রধান আসামি এবং ভিকটিম কাগজে কলমে আসামি-ভিকটিম হলেও বাস্তবে তারা স্বামী স্ত্রী এবং ১ সন্তানের জন্মদাতা জনক এবং জননী এবং একটি সুখী দম্পতি।

ঘটনাটি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পয়ালগাছা ইউনিয়নের কলাখাল এলাকায় ঘটেছে।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৯ জুলাই বরুড়া থানায় অপহরণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর সেং ৩ এর ৭/৩০ একটি মামলা রুজু হয়।

মামলার সূত্রে জানা যায়, পয়ালগাছা ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের মোঃ আব্দুর রশিদ এর পুত্র শাহ আলম এবং কলাখাল গ্রামের মোঃ আবুল হাশেমের পুত্র মোঃ ফারুক হোসেন কলাখাল গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোঃ ইব্রাহিমের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস রুবিনাকে স্কুলে যাওয়ার পথরোধ করে সিএনজি করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ভিকটিম রুবিনার বাবা প্রবাসে থাকার কারনে পরদিন ২৯ জুলাই রুবিনার মা মাকসুদা বেগম বাদী হয়ে বরুড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামি করা হয় প্রধান আসামি শাহ আলমের বাবা মা এবং ২ নম্বর আসামি ফারুকের বাবা মাকেও।

পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভিকটিম রুবিনাকে উদ্ধার এবং আসামি শাহ আলম ও ফারুককে গ্রেফতার করে কক্সবাজার থেকে। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। ৬ মাস কারাভোগের পর জামিন পায় শাহ আলম এবং ফারুক। উভয় পরিবারের সম্মতিতে এলাকায় মেল দরবারে ঘটনাটি শেষ করার জন্য বসা হয়। দরবারে বাদী পক্ষের উকিল, এবং বিবাদী পক্ষের উকিল উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আসামীদের ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। যারমধ্যে ১লাখ টাকা পরিশোধও করা হয় বাদী মাকসুদা বেগমকে। কথা ছিল বাকি ১ লাখ টাকা পরিশোধ করলে মামলা উঠানো হবে। কিন্তু বাকি ১ লাখ টাকা সংগ্রহ করার ফাঁকেই ১ নম্বর আসামি শাহ আলম এবং ভিকটিম রুবিনা পালিয়ে যায় এবং তারা বিয়ে করে ঘরকন্না শুরু করে। বর্তমানে তাদের একটি সন্তান রয়েছে।

অপরদিকে, সেই মামলা তুলে না নেওয়ায় আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। গত মাসে মামলার ২নম্বর আসামী ফারুককে কুমিল্লার ইয়াছিন মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠান বরুড়া থানার এএসআই দোলন মিয়া। ১ নম্বর আসামি শাহ আলম গা ঢাকা দিয়েছেন ফারুকের গ্রেফতারের পর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামলার ভিকটিম রুবিনা এবং ১ নম্বর আসামি শাহ আলমের মাঝে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের জেরে ওরা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। ২নম্বর আসামি ফারুক তাদের পালিয়ে যাওয়ায় সাহায্য করে।

২য় বারের মতো ফের পালিয়ে যাওয়ার পর মথুরাপুর এবং কলাখাল এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মামলা তুলে নেওয়ার সুপারিশ করেন। বারংবার মেল দরবারের তারিখ হলেও তাতে হাজির হননি ভিকটিম রুবিনার মা, মামলার বাদী মাকসুদা। এলাকাবাসীর সর্বোচ্চ অনুরোধেও কান পাতেন নি মাকসুদা। সেই মামলা না তোলায় এবং জামিনে থাকা আসামিদ্বয় আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় নতুন করে নড়া খেয়েছে মামলার ফাইল। মামলার আসামি শাহ আলম পলাতক থাকলেও ভিকটিম শাহ আলমের ঘরে সন্তান লালন করছেন।

মামলার বাদী মাকসুদার কাছে এসব বিষয়ে জানতে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কথাই বলতে রাজি হননি।

ওয়ার্ড মেম্বার দেলোয়ার হোসেন জানান, বহু চেষ্টা করেও এই বিষয়টির সমাধান করা যায়নি। মামলার বাদী মাকসুদা কুমিল্লা শহরে বাড়ি করে থাকেন। হাজারো চেষ্টা করেও তাদের মেল দরবারে আনা সম্ভব হয় নি। মামলা তোলার বিষয়ে কেউ অনুরোধ করলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হন না। উল্টো তার অপবাদ শোন লাগে।

ঘটনার বিষয়ে পয়ালগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দিন জানান, আমি তখন নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। ঘটনার বিষয়ে তেমন একটা মনে নেই আমার।

সংবাদটি শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত  দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা  ২০২০-২১
এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও ব্যবহার বেআইনি

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট