1. mdrahim191420@gmail.com : Tazu Miazi : Tazu Miazi
  2. admin@www.bangladeshbartabd.com : Bangladeshbarta :
অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথেই চলছে হাওরবাসীর জীবন যাত্রা - Bangladesh Barta
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথেই চলছে হাওরবাসীর জীবন যাত্রা

তাহিরপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে

পরিকল্পনা উদ্যোগ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সুনামগঞ্জ দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ের বসবাসরত, হাওরের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেনি। কাটেনি দারিদ্র্যের অন্ধকার। কালের বিবর্তনে হাওর কেন্দ্রিক এই ভাটি অঞ্চলে অর্থনৈতিক,সামাজিক, রাজনৈতিক, সর্বোপরি বৈশ্বিক উষ্ণতায় পরিবেশগত সংকট দেখা দিয়েছে।হাওরের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর অর্থনীতি এখন বিপর্যয়ে।দিনদিন জলবায়ু সংকট তীব্র হচ্ছে,বন্যায় উজান থেকে পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা বালি ও বন্যায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পলি জমে ভরাট হচ্ছে হাওরের মাছের অভয়াশ্রম। এতে ধীরেধীরে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে এসব অভয়াশ্রম গুলো। বসতভিটা ভাঙ্গন তীব্র হচ্ছে,অকালে বন্যা ও খরায় ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে।হাওর পাড়ের মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস মাছ ধানসহ প্রাকৃতিক সম্পদ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।এ অঞ্চলের মানুষের শিক্ষার চিকিৎসায় নেই কোন ভাল ব্যবস্থা। যার ফলে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে চলেছে টাঙ্গুয়ার হাওরবাসীর জীবনযাত্রা। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে

টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।মেঘালয় পাহাড় থেকে ৩০টিরও বেশি ঝরা(ঝরনা)এসে মিলেছে এই হাওরে।দুই উপজেলার ১৮টি মৌজায় ৫১টি ছোট-বড় বিলের সমন্বয়ে ৯৭২৭ হেক্টর এলাকা নিয়ে এই টাঙ্গুয়ার হাওর।পানিবহুল মূল হাওর ২৮বর্গকিলোমিটার এবং বাকি অংশ বসতি ও কৃষি জমি।এক সময় গাছ-মাছ পাখি আর জীববৈচিত্র্যের আধার ছিল এই হাওর।১৯৯৯ সালে এই হাওরটিকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসাবে ঘোষণা করা হয়।এবং ২০জানুয়ারি ২০০০ইং এই হাওরটি রামসার সাইট হিসাবে ঘোষণা করা হয়।এবং হাওর পাড়ের বসবাসরত জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ও হাওরের সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ড সরকারের মধ্যে ২০০১সালের ১২ফেব্রুয়ারি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।২০০৩ সালের ৯নভেম্বর থেকে হাওরের নিয়ন্ত্রণ নেয় জেলা প্রশাসক। ২০০৬ সালের ডিসেম্বর থেকে টাঙ্গুয়ার হাওর সমাজ ভিত্তিক টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্পও কাজ করেছে।কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর অপরিকল্পিত অব্যবস্থাপনায় এই হাওর হতে বিলিন হয়ে যাচ্ছে,হাওর পাড়ের বসবাসরত জনগোষ্ঠীর জীবিকার প্রধান উৎস দেশীয় প্রজাতির মাছ ও হাওরের হিজল-করচ বাগ ও ঢাইল্লা বন(বিশেষ ধরনের শক্ত লতার বন)যাহা হাওর পাড়ের গ্রাম গুলোকে প্রবল ঢেউয়ের আজ্ঞাত থেকে রক্ষা করতো।হাওরটি চারিদিকে পানি আর পানি সমুদ্রসম এর বিস্তৃত ও বিশালত্ব। প্রায় ৯৭২৭ হেক্টর আয়তনের এই হাওর এলাকায় মূলত দুটি মৌসুম বর্ষা ও শুকনো। এক মৌসুমের সঙ্গে অপর মৌসুমের বিশাল বৈপরীত্য পরিবেশ ও প্রতিবেশে।এ হাওরটিকে পুরোপুরি বুঝতে হলে এর দুটি রূপই ভালোভাবে জানতে হবে।হাওরের চারিপাশে নদীর ধারে গড়ে উঠেছে টিলাসম উঁচু গ্রাম,ঘনবসতি গ্রামগুলো সাধারণত ভূমি থেকে ১০-১২ ফুট উঁচু বর্ষায় গ্রামগুলোকে দ্বীপের মতো দেখায়,এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামের বিচ্ছিন্ন ও দূরত্বও রয়েছে অনেক। বর্ষায় নাও ও হেমন্তে পাও এরকম অবস্থা হচ্ছে এখানকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

স্থানীয় সচেতন মহল জানান আমাদের এই হাওর এলাকায় পর্যটকদের আকর্ষণ করার করার জন্য,এ হাওরে রয়েছে প্রকৃতির  সম্পদে পরিপূর্ণ। যাকে ঘিরে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে এ দেশের। কিন্তু কর্তৃপক্ষের যযথাযথ উদ্যোগ  না থাকা ও বাস্তবায়নে আন্তরিকতার অভাবে এসব সম্পদের অপব্যবহার হচ্ছে।এতে নষ্ট হচ্ছে হাওরের জীববৈচিত্র্য ও সম্ভাবনাময় পর্যটন সম্পদ।তাই পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিক হয়ে,পর্যটন শিল্পকে আরো আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত করে গড়ে তুলতে দায়িত্বশীলদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।প্রয়োজনে বেসরকারি বিনিয়োগকারী সংস্থার সাথে অংশীদারত্বের সমঝোতা করে পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে হবে।এই নয়নাভিরাম টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষণাবেক্ষণে চলমান পদ্ধতি বাদদিয়ে নতুন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়ে হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ ফিরিয়ে এনে বিদেশি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে হবে।তাহলে আমরা যেমন অর্জন করতে পারবো বৈদেশিক মুদ্রা তেমনি আমাদের এই প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের কর্মহীন বেকার যুবসমাজ খুঁজে পাবে কর্মসংস্থান।এতে এ অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা বেগবান হলে নানাভাবে আয় বাড়বে মানুষের ঘুচে যাবে দারিদ্র্যের অভিশাপ, খুলে যাবে ভাগ্যের অপার সম্ভাবনার দ্বার। সে ক্ষেত্রে সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা গড়ে তুলতে কতক্ষণ।

টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে আসা,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাহফুজ আদনান জানান,সত্যি এই হাওরের  প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের জন্য মনোমুগ্ধকর।কিন্তু এ সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে প্রথমেই স্থানীয়দের বিকল্প কর্মের ব্যবস্থা করতে হবে।এবং পর্যটকদের একটি নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে ভ্রমণ করতে হবে।এতে কর্তপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত  দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা  ২০২০-২১
এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও ব্যবহার বেআইনি

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট