1. mdrahim191420@gmail.com : Tazu Miazi : Tazu Miazi
  2. admin@www.bangladeshbartabd.com : Bangladeshbarta :
ইতিহাসের দীর্ঘতম যুদ্ধ থেকে খালি হাতেই ফিরতে হল আমেরিকাকে! - Bangladesh Barta
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন

ইতিহাসের দীর্ঘতম যুদ্ধ থেকে খালি হাতেই ফিরতে হল আমেরিকাকে!

বাংলাদেশ বার্তা ডেক্স
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১
  • ৫১ বার পড়া হয়েছে

ম্যানহাটনের বুকে তখনও জমে রয়েছে টুইন টাওয়ারের ধ্বংসাবশেষ। মুহূর্তেই ৩ হাজার প্রাণহানির ক্ষত আক্রোশের আকার ধারণ করছে ক্রমশ। সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতে রাতারাতি সৈন্যসামন্ত নিয়ে আফগানিস্তানে হামলা। প্রতিশোধের আগুনে তখন জ্বলছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী দেশ। বলে বুঝিয়েও তাদের নিরস্ত করতে পারেনি বিশ্বের তাবড় ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো। কিন্তু দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে, হাজার হাজার সৈন্যের দেহ কফিনবন্দি করে, দেশের ইতিহাসের দীর্ঘতম যুদ্ধ শেষ করে খালি হাতেই আফগানিস্তান থেকে ফিরতে হচ্ছে আমেরিকাকে।

পেন্টাগন থেকে এখনও পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে তাতে, গত ২০ বছরে আফগানিস্তানে যুদ্ধের পিছনে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি ডলার খরচ করেছে আমেরিকা। এর মধ্যে শুধুমাত্র আফগান সেনাকে প্রশিক্ষণ দিতেই খরচ হয়েছে ৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। ২০২০ সালের একটি রিপোর্টে পেন্টাগন জানায়, সরাসরি যুদ্ধেই তাদের ৮১ হাজার ৫৭০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে।

মূলত আল কায়দা এবং তাদের আশ্রয়দাতা তালেবান নিধনের লক্ষ্যেই আফগানিস্তানে পা রেখেছিল আমেরিকা। কিন্তু আফগানিস্তানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঋণ পর্যন্ত নিতে হয় তাদের। সেই ঋণের সুদ বাবদই আমেরিকাকে ৫৩ হাজার কোটি ডলার গুনতে হয়েছে বলে স্পেশ্যাল ইনস্পেক্টর জেনারেল ফর আফগানিস্তান রিকনস্ট্রাকশন (সিগার)-এর একটি রিপোর্টে উঠে এসেছে।

২০০৯ সালে আফগানিস্তানে সেনা বাড়িয়ে ১ লাখ করেন আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আফগান সেনা এবং পুলিশ মিলিয়ে তালেবানের বিরুদ্ধে আমেরিকার হয়ে লড়াইয়ে নামে ৩ লাখ সেনা।

সিগার-এর রিপোর্ট বলছে, আমেরিকার সেনার ২ হাজার ৪৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে আফগানিস্তানে। বেসরকারি সংস্থা থেকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে আফগানিস্তানে গিয়ে প্রায় ৪ হাজার জন মারা গেছেন, তাদের অধিকাংশের মৃত্যুর কোনও রেকর্ডই নেই পেন্টাগনের কাছে। আবার গুরুতর জখম হয়ে ফিরেছেন ২০ হাজার ৬৬৬ জন।

সিগারের দাবি, সব মিলিয়ে আফগানিস্তান থেকে বেঁচে ফিরেছেন যেসব সৈনিক, তাদের চিকিৎসা এবং কল্যাণমূলক ভাতা বাবদ ২৯ হাজার ৬০০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে আমেরিকার। যত দিন তারা বেঁচে থাকবেন ততদিন তাদের ভাতা দিতে হবে আমেরিকা সরকারকে।

তবে আমেরিকা পানির মতো টাকা খরচ করলেও গত ২০ বছরে আফগানিস্তানের পরিস্থিতির তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি। বাঁধ, পাকা রাস্তা, স্কুল, হাসপাতাল তৈরি হয়েছে বটে, কিন্তু ২০২০ সালে বিশ্ব ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী আফগানিস্তানে এখনও বেকারত্বের হার ২৫ শতাংশ এবং দারিদ্রের হার ৪৭ শতাংশ।

শুধুই কি আর্থিক ক্ষতি? এই দীর্ঘ যুদ্ধে আমেরিকার ভাবমূর্তি যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা টাকার অংকে নির্ণয় করা সম্ভব নয় বলে মত কূটনীতিকদের একটা বড় অংশের। তাদের মতে, ভিয়েতনাম থেকে শিক্ষা নিয়ে আফগানিস্তান থেকে আগেই সরে যাওয়া উচিত ছিল আমেরিকার। শান্তি এবং স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়ে এক সময় আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়েছিল আমেরিকা। কিন্তু আফগানবাসীকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে তল্পিতল্পা গুটিয়ে নেওয়া আমেরিকার পক্ষে মঙ্গলজনক নয় বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।

তাদের মতে, ইতিহাস সাক্ষী গৃহযুদ্ধ বাধলেই আফগানিস্তানে বিদেশি শক্তির আগমন ঘটে। আমেরিকা আফগানিস্তান ছেড়ে পুরোপুরি চলে গেলে তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

দু’দশক আগে আমেরিকার নেওয়া একতরফা সিদ্ধান্তে এখনও পর্যন্ত আফগানিস্তানেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। ৯/১১ হামলায় যদি তিন হাজার নিরীহ মানুষের প্রাণহানি হয়ে থাকে, গত ২০ বছরে আফগানিস্তানে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৭ হাজার ২৪৫ জন নাগরিক। তালেবান, মুজাহিদিন বা অন্য কোনও সংগঠনের সঙ্গে দূর দূর পর্যন্ত কোনও সংযোগ ছিল না তাদের। আফগানিস্তান নিয়ে খবর করতে গিয়ে ৮০ জন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। আবার যুদ্ধক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করতে গিয়ে ৪০০-এর বেশি মানুষ মারা গেছে। এই সব তথ্য দিয়েছে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে করা আমেরিকারই ব্রাউন ইউনিভার্সিটির একটি রিপোর্ট।

যুদ্ধে নেমে কতজন সেনা মারা গেছে এখনও পর্যন্ত তার সঠিক হিসাব যদিও খোলসা করেনি আফগানিস্তান সরকার। সেনার মনোবল ভেঙে যাবে বলেই তা গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে আফগান সরকার। তবে গত ২০ বছরে প্রায় ৭০ হাজার আফগান সেনা মারা গেছে বলে অনুমান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের।

কিন্তু এত কিছুর পরেও ‘মহাশক্তিধর আমেরিকা’ তালেবানকে কেন রুখতে পারল না? এই বিষয়ে নানা ব্যাখ্যা উঠে আসছে।

কূটনীতিকদের একাংশের মতে, আফগানিস্তানে আসলে অহংয়ের লড়াই করতে গিয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু তালেবানের কাছে তা ছিল শিকড় রক্ষার লড়াই। তাই যতবার আঘাত নেমে এসেছে, ভূপাতিত হয়েও বারবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে তারা। গুলি-বোমায় একজন তালেবান মারা গেলে তার জায়গায় আরও ১০ জন এগিয়ে এসেছে।

আমেরিকার সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লাঘমান প্রদেশে তালেবানের সামরিক শাখার প্রধান মৌলবি মুহাম্মদ কায়েস বলেন, ‘‘এই লড়াইটা আমাদের কাছে ঈশ্বরের আরাধানার মতো। তাই এক ভাই মারা গেলে, দ্বিতীয়জন উপরওয়ালাকে অসন্তুষ্ট করবে না। বরং সর্বশক্তি দিয়ে আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়বে।”

২০১৩ সাল থেকে আফগানিস্তানে প্রায় ২৭ হাজার বোমা নিক্ষেপ করেছে আমেরিকা। এর মধ্যে গত বছরই ৭ হাজার ৪০০ বোমা নিক্ষেপ করা হয়। কিন্তু মার্চ মাসে আমেরিকা সেনা সরানোর কথা ঘোষণা করার পর থেকে সেখানে তালেবান এবং আমেরিকার সেনাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বরং আফগান সেনাকেই বেছে বেছে নিশানা করেছে তালেবান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের অনুমান, বর্তমানে আফগানিস্তানে সক্রিয় তালেবান যোদ্ধার সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার।

এছাড়াও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এবং আংশিক সময়ের যোদ্ধা হিসেবে বহু সদস্য তাদের হয়ে লডাই করছেন সরাসরি যারা তালেবানের সঙ্গে নাম জড়াতে রাজি নন। আফগান সেনাবাহিনী থেকেও বহু জন তালেবানে যোগ দিয়েছেন। আবার হানাহানি এড়াতে তাদের সঙ্গে সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছেন বিভিন্ন প্রদেশের গভর্নররা। তাতেই আশরফ গনি, আমেরিকা এবং ন্যাটোকে হটিয়ে ২০ বছর পর ফের তালেবান কাবুলে শাসন কায়েমের পথে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।

সংবাদটি শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত  দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা  ২০২০-২১
এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও ব্যবহার বেআইনি

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট