1. live@bangladeshbartabd.com : বাংলাদেশ বার্তা বিডি : বাংলাদেশ বার্তা বিডি
  2. azadnews77@gmail.com : বাংলাদেশ বার্তা বিডি : বাংলাদেশ বার্তা বিডি
  3. kazimasud01723@gmail.com : বাংলাদেশ বার্তা বিডি : বাংলাদেশ বার্তা বিডি
  4. live@www.bangladeshbartabd.com : বাংলাদেশ বার্তা বিডি : বাংলাদেশ বার্তা বিডি
  5. marahimbablu@gmail.com : Rahim :
  6. info@www.bangladeshbartabd.com : বাংলাদেশ বার্তা বিডি :
শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:১৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
নাঙ্গলকোটে আমাদের আলোকিত সমাজ চেয়ারম্যান কামরুল ইসলামের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত নাঙ্গলকোটে আওয়ামীলীগের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি লালমাই উপজেলা শাখার ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত চৌদ্দগ্রামে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া’র রোগমুক্তি কামনায় ইফতার, দোয়া মাহফিল ও নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা নাঙ্গলকোটে পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, বোরো ধান নিয়ে শঙ্কায় কৃষক নাঙ্গলকোটে চেয়ারম্যান পার্থী আবু ইউসুফ ও ভাইস চেয়ারম্যান পার্থী আব্দুর রাজ্জাক সুমনের শোভাযাত্রা বাংলাদেশ ইয়াং এসোসিয়েশন বাহারাইনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মইনীয়া যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় খানকা শরীফে আলোচনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত চৌদ্দগ্রামে চাঁন্দকরা মাদরাসার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত চৌদ্দগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ জামে মসজিদ কমিটির উদ্যোগে ইফতার মাহফিল

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশের শিশু

বাংলাদেশ বার্তা বিডি ডেক্স
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৪
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

সাইফুল ইসলাম (স্বপ্নীল)

সেদিন কোন ঝড় ছিল না।ছায়াঘেরা,মায়াভরা শান্ত,সুনিবিড়,বাইগার-মধুমতি বিধৌত পাটগাতি সংলগ্ন টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফুর রহমান ও সায়েরা খাতুন দম্পতির কোলে এ জাতির আলো হয়ে এসেছিলেন ছোট্ট খোকা। সে আলোর ঝলকানিতে আলোকিত হলো পুরো বাঙালি জাতি। সে আলো হাজার বছর প্রতীক্ষার আলো,সে আলো সুবর্ণ-স্নিগ্ধ আলো, সে আলো হাজার বছরের শৃঙখল থেকে মুক্তির আলো। সে আলোয় সার্থক হয়েছিল বাঙালি জাতির হাজার বছরের স্বাধীনতার স্বপ্ন।

এ জাতির ঘোর অমানিশা,অন্ধকার দূর করার জন্য স্রষ্টাপ্রদত্ত শ্রেষ্ঠ উপহার ১৯২০ এর ১৭ ই মার্চ এ ধরাতে এসেছিলেন । অমাবস্যার ঘোর অমানিশা কাটাতে প্রভাতের রক্তিম সূর্য হয়ে এসেছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। সেই অঁজপাড়াগাঁ টুংগীপাড়া থেকে ছোট্ট খোকা ঘোর অন্ধকারকে প্রভাতের স্নিগ্ধ আলোতে পরিণত করেছিলেন। ছোট্ট মুজিবের আগমণে অনুনাদ ছড়িয়ে পড়েছিল বাংলার আকাশে বাতাসে। অনুরণন ঘটেছিল বাংলার প্রতিটি অণু-পরমাণুতে। বৃক্ষ-ফুলে-ফলে শোভিত বসন্ত জানান দিয়েছিল ওই যে মহামানব আসে, চারিদিকে যেন রোমান্স লাগে।যার অবস্থান বাংলার আকাশে ধ্রুবতারার মতোই।

গুরুদেবের কথায়,” উদয়শিখরে জাগে ‘মাভৈ: মাভৈ:’নবজীবনের আশ্বাসে ।
‘জয় জয় জয় রে মানব-অভ্যুদয়’মন্দ্রি-উঠিল মহাকাশে”।পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বাংলার স্বাধীনতার নব সূর্যোদয় রচিত হয়েছিল সেই ছোট্ট খোকার হাত ধরেই। ছোট্ট খোকা ছোটকাল থেকেই দুরন্ত এবং অত্যন্ত প্রতিবাদী ছিলেন। তাইতো তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তার স্কুলে আসার পর স্কুলের ভবনের জন্য ছোট্ট খোকা দাবি তোলেন। খুব কম বয়সেই তার শিক্ষক আব্দুল হামিদ এমএ এর সঙ্গে বাড়ি বাড়ি মুষ্টি চাল সংগ্রহ করে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য তহবিল গঠন করেন। ইংরেজিতে মর্নিং সোজ দ্য ডে এর মতন ছোটবেলায় ছোট্ট খোকা তার বাংলার অবিসংবাদিত নেতা হবার ইংগিত দিয়েছিলেন। সদাজাগ্রত, প্রতিবাদী,নিপীড়িত,অবহেলিত,বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর, বাংলার বজ্রকন্ঠ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নচিকেতার ভাষায় তিনি ছিলেন তুমি আসবে বলে কৃষ্ণচূড়ার ফুলগুলো এখনো ঝরে যায়নি।শিমুল-পলাশ -রক্তজবার মতোই প্রকৃতি বর্ণাঢ্য রঙে রাঙ্গিয়েছিল ছোট্ট খোকার আগমণে।দিগ্বিদিক ধামামা বাজিয়ে ছোট্ট খোকাকে আসতেই হতো! বাংলার স্বাধীনতার অস্তমিত সূর্য মুক্তির আলোয় আলোয় ফিরে আসতেই হতো!সে স্বাধীনতা, মুক্তি একটি তর্জনীর ইশারায় প্রাণ পাবে, একটি বজ্রকণ্ঠের আঘাতে ফিরে আসবে তা কে জানতো?

আজীবন নিপীড়িত,বঞ্চিত, অসহায় মানুষের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত ছিলেন সেই ছোট্ট খোকা। অধিকারহারা জাতির আহবানে সাড়া দিয়ে ছোট্ট খোকা জাতির স্বাতন্ত্র‍্যবোধ, স্বাধিকার,সংস্কৃতিকে রক্ষা করেছিলেন।ভাষা আন্দোলনের উত্তপ্ত দিনগুলোতে জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি থাকার পরও গোপনে গোপনে ছাত্র নেতৃবৃন্দকে আন্দোলনের পরামর্শ দিতেন এবং মুসলিম লীগের নিপীড়িত মহিউদ্দিনসহ ১৩ দিন অনশন করেছিলেন। পাকিস্তানি ইস্পাত-কঠিন শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষুকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বারবার স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে বারবার জেলে গিয়েছিলেন। ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আপসহীন,অকুতোভয়,অবিসংবাদিত নেতা বারবার জেলের মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকার পরও কোন আপস করেননি ;নীতি আদর্শের প্রতি অবিচল ও অটল ছিলেন ।

১৯৯৩ সালে জাতির পিতার জন্মদিনে জাতীয় শিশু দিবস পালনের প্রস্তাব করেন অধ্যাপক নীলিমা ইব্রাহিম।১৯৯৪ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় শিশু-কিশোর মেলা বেসরকারিভাবে প্রথমবার দেশে ১৭ই মার্চ জাতীয় শিশু কিশোর দিবস পালন করে। ১৯৯৬ সালের তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জাতির পিতার জন্মদিনকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে উদযাপনের ঘোষণা দেয়। ১৯৯৭ সালের ১৭ ই মার্চ থেকে সরকারিভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

জাতির পিতার নিষ্পাপ শিশুপুত্ররাসেল ছিল তার নয়নমণি ও বাংলাদেশের সব শিশুদের ভালোবাসা ও মমতার প্রতীক। শিশু রাসেল ছিল জাতির পিতার কলিজা। সব শিশুর মডেল হিসেবে প্রিয় রাসেলকে গড়তে চেয়েছিলেন।তিনি যেখানে যেতেন প্রিয় পুত্র রাসেলকে সাথে নিতেন।বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন , মানুষ-পশু-পাখি-প্রাণী নির্বিশেষে প্রতিটি শিশুই পিতা-মাতার কাছে বড় স্নেহ,মায়া ও মমতার। ধনী-গরিব-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে শিশুদের সবাই আদর করে । সুন্দর,সমৃদ্ধ,উন্নত স্বদেশ গড়তে হলে আগে শিশুদের গড়তে হবে ।তাদের দেশপ্রেম শিখাতে হবে । বঙ্গবন্ধুর রক্তে, কথায় ও বিশ্বাসে শিশুদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ছিল। শিশুদের ঠিকমতো গড়তে পারলেই তিনি সার্থক মনে করতেন।

শিশু ও দূরন্ত কিশোর ছোট্ট খোকা কালের পরিক্রমায় যখন বঙ্গবন্ধু ও এ রাষ্ট্রের স্থপতি হলেন তখনো শিশু-কিশোরদের তিনি ভুলে যাননি । তাইতো শিশু প্রাণ মানুষ এর জন্মদিন জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে প্রাণ ও স্বার্থকতা পেয়েছে। বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোরদের অনেক ভালবাসতেন । তিনি শৈশবে বা কৈশোরে যেভাবে মুক্ত বিহঙ্গের মতো উড়ে বেরিয়েছেন, আনন্দে মেতেছেন ঠিক তেমনিভাবে নিষ্পাপ শিশু-কিশোররা মুক্তচিন্তায় বেড়ে ওঠার সুযোগ ও পরিবেশ পায় সে ভাবনা সবসময় করতেন। এক কথায় তিনি শিশু কিশোর অন্ত:প্রাণ ছিলেন। শিশু-কিশোরদের অগাধ ভালোবাসা,মায়া- মমতা ভরা আদর-স্নেহ করতেন।জাতির পিতার জীবনে অনেক ঘটনাবহুল মধুর স্মৃতি রয়েছে শিশু-কিশোরদের নিয়ে।

১৯৭৪ সালে গুলিস্তান সিনেমা হলের সামনে তৎকালীন শিশুপার্কে আয়োজিত শিশুমেলা শেষে শিশুরা দেখা করতে আসে। শিশুরা চাইলেই বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে পারত।তিনি তাদের মিষ্টি উপহার দেন এবং প্রত্যেকের নাম জিজ্ঞেস করেন। একটি শিশু তার নাম মুজিবুর রহমান বলায় বঙ্গবন্ধু আদর করে কোলে তুলে নিয়ে উচ্ছ্বাসের সাথে বললেন, “পেয়েছি, আমার মিতাকে পেয়েছি।” জাতির পিতার এরকম হাজারো ঘটনাবহুল স্মৃতি রয়েছে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে।নিষ্পাপ শিশুদের মতো সরল-সাবলীল জীবনাচরণ ছিল জাতির পিতার। কিন্তু সেই উদ্যত কালো হাত জাতির পিতার স্বপ্নকে ধুলিস্যাৎ করার জন্য শিশুসুলভ, সহজ-সরল শিশু অন্ত:প্রাণ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে।

জাতির পিতা শিশুদের উন্নয়নে চারটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন । * শিশুদের কল্যাণের জন্য মায়েদের সম্পৃক্ত করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর গঠন । *শিশুদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য গড়েছিলেন শিশু একাডেমি।এখানে উল্লেখ্য এ দুটি প্রতিষ্ঠান বিষয়ক পরিকল্পনা বঙ্গবন্ধুর সবসময়ই করতেন। *শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ১৯৭৩ সালে সাইত্রিশ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের সে সময়ের আর্থ-সামাজিক পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সাহসী ও যুগান্তকারী। *শিশু অধিকার রক্ষাকবচ হিসেবে ১৯৭৪ সালের ২২শে জুন শিশু আইন জারি করেন।

আজকের শিশু আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশের নেতা। এ শিশুরাই আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে। তাই শিশুদের জাতির পিতার আদর্শে বলিয়ান হয়ে আগামীর সুন্দর-সুবর্ণ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।নিজেদের সৎ, যোগ্য,দক্ষ, তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একজন মানবিক মানুষ,মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী,অসাম্প্রদায়িক, সুশাসন, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। বিশ্ব নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার জন্য সফট স্কিলসমূহ অর্জন করতে হবে। সকল অন্যায়,অবিচার ও দুর্নীতির কালো হাতকে পরাস্ত করে উন্নত,সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের ভাষ্যে,”যেখানে ঘুমিয়ে আছো, শুয়ে থাকো বাঙালির মহান জনক তোমার সৌরভ দাও, দাও শুধু প্রিয়কণ্ঠ শৌর্য আর অমিত সাহস টুঙ্গিপাড়া গ্রাম থেকে আমাদের গ্রামগুলো তোমার সাহস নেবে নেবে ফের বিপ্লবের দুরন্ত প্রেরণা।”

লেখক:প্রভাষক,সরকারি হাজী আব্দুল বাতেন কলেজ, সন্দীপ,চট্টগ্রাম।
saifulislamswapnil01@gmail.com

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট